Monday, April 13, 2026
Latestদেশ

Dhruvastra Missile: আরও শক্তিশালী হবে ভারতীয় বায়ুসেনা, বহরে যুক্ত হতে চলেছে ধ্রুবাস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে ‘ধ্রুবাস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই আধুনিক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) তৈরি করেছে Defence Research and Development Organisation (ডিআরডিও)। হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত নাগ মিসাইলের উন্নত সংস্করণ, যা বিশেষ করে পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

ধ্রুবাস্ত্র মূলত নাগ মিসাইল (Nag missile) পরিবারের অংশ। ১৯৮০-র দশকে ভারতের সমন্বিত গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম (A. P. J. Abdul Kalam)। সেই ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই তৈরি হয়েছে এই তৃতীয় প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র।

ধ্রুবাস্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তি। একবার লক্ষ্যবস্তুতে লক করলেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যকে অনুসরণ করে ধ্বংস করতে সক্ষম। খারাপ আবহাওয়া, কুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকার—কোনও কিছুই এর কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে না। তাপ সনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া যানকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমা প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং প্রতিটির ওজন প্রায় ৪৩ কেজি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি প্রায় ৮০০ মিলিমিটার পুরু ইস্পাত ভেদ করতে সক্ষম, যা আধুনিক ট্যাঙ্ক ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর। উৎক্ষেপণের পর এটি প্রথমে একটি উচ্চতায় উঠে, তারপর সেখান থেকে লক্ষ্যবস্তুর ওপর সরাসরি আঘাত হানে—যা একে আরও বেশি মারাত্মক করে তোলে।

লাদাখ ও কাশ্মীরের মতো উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের কথা মাথায় রেখে ধ্রুবাস্ত্রকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। Hindustan Aeronautics Limited (হ্যাল)-এর তৈরি রুদ্র এবং প্রচণ্ড অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে এই মিসাইল নিক্ষেপ করা যাবে। ফলে সীমান্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও আক্রমণক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই ১৫৬টি ‘প্রচণ্ড’ হেলিকপ্টারের অর্ডার দিয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০-রও বেশি ধ্রুবাস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ১ কোটি টাকারও কম বলে জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ধ্রুবাস্ত্র শুধু একটি নতুন অস্ত্র নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং কার্যকর করে তোলার একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে উত্তর সীমান্তে এর মোতায়েন ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার শক্তিকে আরও সুসংহত করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।