বাদুড়িয়ায় বসে লস্কর-ই-তৈবার হয়ে কাজ, ধৃত তানিয়াকে জেরা করে সঈদ মহম্মদ ইদ্রিশকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিল আদালত
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাদুড়িয়ায় বসে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার হয়ে কাজ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল কলেজ পড়ুয়া তানিয়া পারভিনকে। তাকে জেরা করে ধৃত সঈদ মহম্মদ ইদ্রিশ ওরফে মুন্নাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালত। পাশাপাশি কয়েক হাজার টাকা জরিমানারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার মুখ্য বিচারক সুকুমার রায় এই সাজা ঘোষণা করেন। এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, আদালতে দোষ স্বীকার করেন ইদ্রিশ। সমস্ত নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পর আদালত তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ইউএপিএ-সহ একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২০ সালের মার্চ মাসে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থেকে কলেজ পড়ুয়া তানিয়া পারভিনকে প্রথমে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। প্রাথমিক তদন্তে জঙ্গি যোগের ইঙ্গিত মেলায়, প্রায় দু’সপ্তাহের মধ্যেই মামলার তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।
এনআইএ-র জেরায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা যায়, তানিয়া পারভিন পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের হয়ে কাজ করছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সে জেহাদি আদর্শে অনুপ্রাণিত করার জন্য একাধিক গোপন গ্রুপ তৈরি করে এবং অনলাইনে যুবক-যুবতীদের জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করার কাজ চালাত। বাদুড়িয়ায় বসেই তৈরি হয়েছিল একটি পূর্ণাঙ্গ জেহাদি মডিউল।
তানিয়াকে জেরা করেই কাশ্মীরের বান্দিপোরা থেকে লস্কর জঙ্গি আলতাফকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একে একে ধরা পড়ে সঈদ মহম্মদ ইদ্রিশ ওরফে মুন্না এবং আয়েশা সিদ্দিকি। অভিযুক্ত আয়েশা সিদ্দিকি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা বলে জানায় তদন্তকারী সংস্থা। ইদ্রিশ কর্নাটকে থাকত বলেও তদন্তে উঠে আসে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই মামলায় চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। তানিয়া পারভিন, সঈদ মহম্মদ ইদ্রিশ ও আয়েশা সিদ্দিকির বিরুদ্ধে ইউএপিএ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তদন্তে দাবি করা হয়, ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল এই জঙ্গি মডিউল, যার পেছনে মদত দিচ্ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সতর্ক নজর এড়াতে পারেনি এই চক্র। তিন অভিযুক্তের মধ্যে ইদ্রিশের সাজা ঘোষণা করা হল। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি।


