Bengaluru: ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার ১৬ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে বেঙ্গালুরু পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ১৬ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। হেব্বাগোডি থানার অন্তর্গত এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, এরা সকলেই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং ভুয়ো নথি তৈরি করে দীর্ঘদিন বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হেব্বাগোডিতে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার সময়। বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (GBA)-র অভিযানের সময় এক ব্যক্তি ভিডিও করছিলেন। সেই সময় এক মহিলাকে ‘জয় বাংলা’, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। ওই ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভাইরাল ভিডিও দেখে মহিলাকে শনাক্ত করে পুলিশ। তার নাম সারবানা খাতুন, হেব্বাগোডির পোদি গ্রামের বাসিন্দা। তদন্তে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশি নাগরিক এবং তার সঙ্গে একই এলাকায় আরও একাধিক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বসবাস করছিলেন।
জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে, তারা প্রত্যেকে ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন। সীমান্ত পেরিয়ে প্রথমে তাদের কলকাতায় আনা হয়, সেখান থেকে ট্রেনে করে বেঙ্গালুরু। স্থানীয় দালালদের সাহায্যে ভুয়ো আধার কার্ড, ভোটার আইডি এমনকি কয়েকজনের ক্ষেত্রে বিপিএল কার্ডও তৈরি করা হয়। এখনও পর্যন্ত তিনজন পুরুষসহ মোট ১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
হোয়াইটফিল্ড কাণ্ডে নতুন তথ্য
এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেই মনে করছে প্রশাসন। গত ৫ জানুয়ারি, হোয়াইটফিল্ডে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ইউসুফ মীর (৩০)-কে। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে দাবি করলেও পরে জানা যায়, তার আধার ও ভোটার কার্ড ভুয়ো। তিনিও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ইউসুফ মীরের তিন স্ত্রী রয়েছে। দু’জন কলকাতায় থাকেন, তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি হোয়াইটফিল্ডে বসবাস করছিলেন। শিশুটির পরিবারের সঙ্গে বিবাদের জেরেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। বর্তমানে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যদের নথিও যাচাই করা হচ্ছে।
কোগিলু লেআউট ঘিরে রাজনৈতিক তরজা
এদিকে বেঙ্গালুরুর কোগিলু লেআউট-এ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জিবিএ-র অভিযানের পর বিষয়টি রাজনৈতিক রঙ নেয় এবং সংখ্যালঘু অধিকার ইস্যুতে কর্ণাটক–কেরালা টানাপোড়েনও দেখা দেয়।
বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির দাবি, কোগিলু লেআউটের উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে মাত্র ২৬ জন স্থানীয়, অথচ সরকারি আবাসন প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন ২৫২ জনেরও বেশি। কমিটির অভিযোগ, বহু বাসিন্দার কাছে একাধিক আধার ও ভোটার আইডি রয়েছে, যা থেকে তাদের পরিচয় নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিজেপির দাবি, এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
এই ঘটনায় বিজেপি এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। যদিও কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার আপাতত বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।


