Sunday, April 12, 2026
Latestরাজ্য​

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৬ মাসের মধ্যে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ লাগু হবে: অমিত শাহ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলায় সরকার গঠনের ৬ মাসের মধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা Uniform Civil Code (ইউসিসি) কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইস্তাহারে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিল বিজেপি। শুক্রবার নিউ টাউনে আয়োজিত সংকল্পপত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি জানান, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের মতো বাংলাতেও ইউসিসি চালুর পথে এগোবে বিজেপি সরকার।

এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসকদল তৃণমূলের নেতা অভিষেক ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অতীতেও তৃণমূল ইউসিসি-র বিরোধিতা করেছে। দলের বক্তব্য, জাতীয় স্তরে বা সংসদে এই সংক্রান্ত বিল এলে তারা তার বিরোধিতা করবে।

ইউসিসি কী এবং কেন বিতর্ক?

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি মূলত এমন একটি আইন, যেখানে ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম রাজনৈতিক এজেন্ডা এই ইউসিসি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) একাধিকবার এই আইনের পক্ষে সওয়াল করেছেন। 

কী বলছে বিজেপি?

পদ্ম শিবিরের দাবি, ইউসিসি চালু হলে সমাজে আইনি সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে—

বহুবিবাহের মতো প্রথা বন্ধ হবে।

মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স নিশ্চিত হবে।

বিবাহবিচ্ছেদ কেবল আদালতের মাধ্যমেই বৈধ হবে।

উত্তরাধিকারে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে। 

বিজেপির মতে, এই আইন কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতিকে আঘাত করবে না, বরং সংবিধানের সমতার নীতিকে শক্তিশালী করবে।

বিরোধীদের আশঙ্কা কোথায়?

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, ইউসিসি কার্যকর হলে সংখ্যালঘু ও জনজাতি সমাজের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথার উপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জনজাতিদের বিবাহ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নিজস্ব রীতি রয়েছে, যা প্রচলিত হিন্দু আইনের থেকে ভিন্ন। এই বৈচিত্র্য বজায় থাকবে কিনা, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক 

বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে ইউসিসি ইস্যু নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে বিজেপি ‘আইনি সমতা’-র বার্তা তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীরা ‘সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য’-র প্রশ্ন তুলছে। ফলে, এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।