Ami Banglar Digital Joddha: ‘আগামী ১০০ দিনে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড় নয়’, ডিজিটাল যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে অভিষেক
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্থবার জয়লাভ করতে ডিজিটাল ময়দানে সংগঠিতভাবে নামল তৃণমূল। সোমবার কলকাতার বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কনক্লেভ থেকেই কার্যত নির্বাচনী প্রচারের দামামা বাজিয়ে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের ডাক দেন তিনি। আগামী ১০০ দিনের একটি স্পষ্ট ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনাও ঘোষণা করেন অভিষেক।
কনক্লেভের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ের ধরন বদলেছে। ৩০–৫০ বছর আগের কৌশল আজ আর কার্যকর নয়। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই হাতিয়ারকে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই এখন দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর কথায়, “আগামী ১০০ দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার এক ইঞ্চি জমিও বিজেপিকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।”
ডিজিটাল যোদ্ধাদের উদ্দেশে অভিষেক অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি সামান্য সুযোগ পেলেই ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালায়। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের একাংশ চাপের মুখে সরকারের ইতিবাচক কাজ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সত্য ও তথ্যভিত্তিক বার্তা তুলে ধরার দায়িত্ব দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কাঁধে তুলে দেন অভিষেক।
কনক্লেভে তৃণমূলের নির্বাচনী কাঠামোকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের তিনটি ভাগে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, ‘আর্মি’ হলেন মাঠে থাকা কর্মীরা, যারা বুথ ম্যানেজমেন্ট, পতাকা বিলি ও সরাসরি জনসংযোগের কাজ করেন। ‘এয়ার ফোর্স’ হল ডিজিটাল যোদ্ধারা, যারা সমাজমাধ্যমে দলের বার্তা পৌঁছে দেবেন ও বিরোধীদের অপপ্রচার মোকাবিলা করবেন। আর ‘নেভি’ হিসেবে কাজ করছেন দলের জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীরা, যারা সংসদ থেকে শুরু করে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে দলের হয়ে লড়াই চালাচ্ছেন।
তিন বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার উপরই নির্বাচনী সাফল্য নির্ভর করছে বলে জানান অভিষেক। তিনি বলেন, মাঠের কাজ, ডিজিটাল প্রচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক লড়াই—এই তিনের সমন্বয়েই মানুষের কাছে দলের উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রকল্পের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
আগামী ১০০ দিনের কর্মসূচিতে ডিজিটাল যোদ্ধাদের তথ্যভিত্তিক পোস্ট, রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পের প্রচার এবং বিরোধীদের বিভ্রান্তিকর দাবির তথ্যসহ পাল্টা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন অভিষেক। শহর ও গ্রাম—উভয় ক্ষেত্রেই ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
কনক্লেভে সারা রাজ্য থেকে ১০ হাজারেরও বেশি ডিজিটাল যোদ্ধা অংশ নেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহারের কৌশল, তথ্য উপস্থাপনার ধরন ও ডিজিটাল ক্যাম্পেনিংয়ের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেব। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের পক্ষে যদি বাংলার মানুষ রায় দেন, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বড় জনসমর্থন নিয়ে চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরবেন।’
ডিজিটাল কনক্লেভের মাধ্যমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সমাজমাধ্যমকে কেন্দ্র করে তৃণমূল যে আক্রমণাত্মক ও সুসংগঠিত কৌশল নিতে চলেছে, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল এদিন।


