‘পশ্চিমবঙ্গে কোনও মহিলা নিরাপদ নন, তৃণমূলের আমলে প্রতিটি দফতরে দুর্নীতি’, মন্তব্য অভয়ার মায়ের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। নিহত তরুণী চিকিৎসক অভয়ার মা নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়তে পারেন। বিজেপি সূত্রে খবর, আজ বিকেলের মধ্যেই দলের দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতে পারে, আর সেই তালিকায় পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তাঁর নাম থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
অভয়ার মা জানিয়েছেন, নারীসুরক্ষার প্রশ্নকেই সামনে রেখেই তিনি রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে কোনও মহিলা নিরাপদ নন। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রতিটি দফতরে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। এর প্রতিবাদ জানাতেই আমি বিজেপিতে যোগ দিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, আগেও তাঁর কাছে বিজেপির প্রস্তাব এসেছিল, তবে তখন তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।
প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা নিজেই দলের কাছে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন অভয়ার মা। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির বিরুদ্ধে সরব হতেই তিনি নির্বাচনের ময়দানে নামতে চান। একইসঙ্গে তিনি মনে করছেন, মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার পেতেও রাজনৈতিক মঞ্চ প্রয়োজন, আর সেই ক্ষেত্রে বিজেপিকেই তিনি একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, আর জি কর হাসপাতালে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছিল তরুণী চিকিৎসক অভয়াকে। এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে মেয়ের ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর পরিবার।
অভয়ার মা জানিয়েছেন, তাঁদের মেয়ের মৃত্যু স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই হয়েছে। তাই নির্বাচনী প্রচারে এই বিষয়গুলিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলে তাঁদের মেয়ের বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
এদিকে, এই ইস্যুতে অভয়ার বাবাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন হয়েছিল, তা প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য ছিল না। তাঁর কথায়, “অনেকে নিজেদের স্বার্থে আন্দোলন করেছে। আমাদের বাস্তব পরিস্থিতি কেউ বোঝেনি। শুরু থেকেই অনেকের উদ্দেশ্য পরিষ্কার ছিল না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভয়ার মাকে প্রার্থী করা হলে তা নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সহানুভূতি এবং নারীসুরক্ষা—এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি নতুন বার্তা দিতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম থাকে কি না এবং ভোটের ময়দানে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।


