১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করলো স্পেন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচে শিশু ও কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করল স্পেন। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যবহারকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
মঙ্গলবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন কার্যত একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’, যেখানে আইন মানা হয় না, ঘৃণাবাক্য ছড়ায় এবং সত্যের চেয়ে ভুয়া তথ্যই বেশি গুরুত্ব পায়।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর বয়স যাচাইব্যবস্থা চালু করতে হবে। শুধু প্রতীকী টিকচিহ্ন নয়, বাস্তব ও কার্যকর প্রযুক্তিগত বাধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সানচেজ।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের শিশুরা এমন এক ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রবেশ করছে, যা আসক্তি, নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি ও সহিংসতায় ভরা। আমরা আর এটি মেনে নেব না।”
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় বয়সভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। সেই পথ অনুসরণ করেই এবার ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে স্পেন এই পদক্ষেপ নিল।
যদিও স্পেন সরকার এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি, ঠিক কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এই আইনের আওতায় আসবে। তবে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ টিকটকের বিরুদ্ধে এআই-নির্মিত শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্সকে (সাবেক টুইটার) অবৈধ যৌন কনটেন্ট তৈরির জন্য এবং ইনস্টাগ্রামকে ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারির অভিযোগে সমালোচনা করেন।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ঘৃণামূলক বা অবৈধ কনটেন্ট সরাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়াকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথাও বলা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশেও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের আইন আনার উদ্যোগ চলছে।
তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মেটা জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচের বলে সন্দেহভাজন পাঁচ লক্ষেরও বেশি অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে সরানো হয়েছে। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও কিশোররা বিকল্প পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সরকারের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।


