Saturday, January 24, 2026
কলকাতা

Char Dham: চার ধাম যাত্রায় মোবাইল ফোন, ক্যামেরা নিষিদ্ধ করলো উত্তরাখণ্ড সরকার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: চারধাম যাত্রায় মন্দিরের পবিত্রতা ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত নিল উত্তরাখণ্ড সরকার। বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী—চারধামেই ভক্তদের জন্য মোবাইল ফোন, ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিল ও ভ্লগ তৈরিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বারবার বিতর্ক ও অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

চারধাম যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গাড়ওয়াল কমিশনার বিনয় শঙ্কর পাণ্ডের সভাপতিত্বে চারধাম যাত্রা ট্রানজিট ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাড়ওয়াল রেঞ্জের আইজি রাজীব স্বরূপ, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা।

বৈঠক শেষে গাড়ওয়াল কমিশনার বিনয় শঙ্কর পাণ্ডে জানান, গত কয়েক বছরে মন্দির চত্বরে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ব্যবহার করে রিল ও ভ্লগ তৈরির ফলে একাধিকবার বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে, যা তীর্থক্ষেত্রগুলির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তাঁর কথায়, “এই পরিস্থিতি এড়াতেই বদ্রীনাথে সিংহদ্বার অতিক্রম করার পর মোবাইল, ক্যামেরার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। একই নিয়ম কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দির চত্বরেও কার্যকর থাকবে।”

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (BKTC) এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভক্তদের মোবাইল ফোন নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। মন্দিরে প্রবেশের আগে নির্দিষ্ট স্থানে ফোন, ক্যামেরা জমা দেওয়ার সুবিধা থাকছে, যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে দর্শন করতে পারেন।

প্রশাসনের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা রোধ করা যাবে, তেমনই ভক্তরা সম্পূর্ণ মনোযোগ ও ভক্তিভাব নিয়ে দর্শন করতে পারবেন। সরকার এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসের পবিত্রতা রক্ষার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই চারধাম যাত্রা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সমস্ত জেলায় ছেড়ে দেওয়া হবে। জেলাশাসকদের তিন দিনের মধ্যে জরুরি কাজের তালিকা জমা দিতে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নেও কড়া নজর প্রশাসনের। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, এনএইচআইডিসিএল, পূর্ত দপ্তর (PWD) ও বিআরও-কে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে যাত্রাপথের সমস্ত রাস্তা মেরামতির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিএসএনএলকে যাত্রাপথ ও মন্দির এলাকায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৫ দিন অন্তর ডাক্তার বদলির ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা প্রস্তুত রাখতে হবে। যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দপ্তরকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তীর্থযাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে। আগের মতোই ৬০ শতাংশ অফলাইন এবং ৪০ শতাংশ অনলাইন রেজিস্ট্রেশন চালু থাকবে। প্রয়োজনে রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারের সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ছোট বাস দিয়ে শাটল পরিষেবা চালু করা এবং ব্রহ্মপুরী চেকপোস্ট সংলগ্ন সড়ক প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গাড়ওয়াল কমিশনার জানান, ২০২৩ সালে রেকর্ড ৫৬ লক্ষ ভক্ত চারধাম দর্শন করেছেন। আগের মরশুমেও ৫০ লক্ষের বেশি তীর্থযাত্রী নির্বিঘ্নে যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। তাঁর আশা, সরকারের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপগুলির ফলে এ বছরের চারধাম যাত্রা আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে এবং দেশের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্রগুলির মর্যাদা অটুট থাকবে।