Iran protests: বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, মৃত কমপক্ষে ২০০০
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভয়াবহ সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে ইরানে কমপক্ষে ২০০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রথমবার এত বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর কথা কার্যত স্বীকার করল ইরানি সরকার। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে এক শীর্ষ ইরানি আধিকারিক এই তথ্য জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তাকর্মী—উভয় পক্ষের লোকই রয়েছেন।
মূলত ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত অন্তত তিন বছরের মধ্যে এটি ইরানের ধর্মীয় শাসকদের সামনে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
এই অস্থিরতার মধ্যেই সোমবার রাতে বড় ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যে কোনও দেশের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপানো হবে। ট্রাম্পের দাবি, বিক্ষোভ দমনে ইরানের ভূমিকার জন্য দেশটিকে শাস্তি দিতেই এই সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি তিনি সামরিক পদক্ষেপসহ ‘সব ধরনের বিকল্প’ খোলা রাখার কথাও বলেন।
এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের এই শুল্ক ঘোষণার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। তবে কড়া ভাষায় এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চিন।
উল্লেখ্য, আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার অধিকাংশ তেল রপ্তানি করে চিনে। তুরস্ক, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ভারতও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতেও ইরান বড় মাপের গণবিক্ষোভ সামাল দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। একদিকে গভীর অর্থনৈতিক সংকট, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ—দু’দিকের চাপে ইরান কার্যত কোণঠাসা। এই প্রেক্ষাপটে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মন্তব্য করেছেন, ইরান সরকার বর্তমানে পতনের মুখে দাঁড়িয়ে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটি কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে গোটা বিশ্বের নজর এখন তেহরানের দিকে।


