Wednesday, January 14, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

Trump Tariffs: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইরানে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা যত বাড়ছে, ততই কড়া হচ্ছে আমেরিকার অবস্থান। এই আবহে সোমবার ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলির উপর ২৫ শতাংশ ট্যারিফ চাপানোর ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার লক্ষ্য একটাই- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একঘরে করা। প্রশ্ন উঠছে, ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক থাকা ভারতের উপরেও কি এর প্রভাব পড়বে?

ট্রাম্প সাফ জানান, ইরানের সঙ্গে যে দেশগুলি বাণিজ্য করবে, তারা আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে এলে অবিলম্বে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে বাধ্য হবে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এতে কোনও রদবদল হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘোষণার জবাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইরান।

ভারতের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য কতটা?

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারত–ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা)।

ভারত রপ্তানি করেছে: ১.২৪ বিলিয়ন ডলার

ভারত আমদানি করেছে: ০.৪৪ বিলিয়ন ডলার

পরিমাণের দিক থেকে এই বাণিজ্য সীমিত হলেও, কৌশলগত গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।

কী আমদানি–রপ্তানি হয়?

ভারত মূলত ইরান থেকে আমদানি করে—

রাসায়নিক দ্রব্য: ৫১২.৯২ মিলিয়ন ডলার

ফল: ৩১১.৬০ মিলিয়ন ডলার

জ্বালানি ও তেলজাত পণ্য: ৮৬.৪৮ মিলিয়ন ডলার

অন্যদিকে ভারত রপ্তানি করে চাল, ওষুধ, কফি, চা, মশলা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।

চাবাহার বন্দর নিয়ে শঙ্কা

বাণিজ্যের অঙ্ক ছোট হলেও ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো চাবাহার বন্দর। আগামী দশ বছরের জন্য এই বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানকে বাইপাস করে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সংযোগের একমাত্র কার্যকর পথ এটি। ট্রাম্পের ট্যারিফ ঘোষণার জেরে এই প্রকল্প ভবিষ্যতে কতটা চাপে পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কূটনৈতিক মহলে।

আগেই শুল্কের চাপে ভারত

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছিলেন। পরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়। ফলে বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর রয়েছে। নতুন করে ইরান-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে আরও শুল্ক চাপলে, তার প্রভাব পড়তে পারে ভারত–আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বহুদিন ধরে আলোচনাধীন বাণিজ্য চুক্তিতেও।

ইরানের পরিস্থিতি

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরান জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। আর্থিক সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। বহু জায়গায় সরকারি অফিস ও ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। পাল্টা পুলিশি ধরপাকড় এবং গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে ইরানে এয়ার স্ট্রাইকের হুঁশিয়ারি দেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আয়াতোল্লা খামেনেই স্পষ্ট ভাষায় আমেরিকাকে ‘নিজের চরকায় তেল দিতে’ বলেন। হুঁশিয়ারি–পাল্টা হুঁশিয়ারির মধ্যেই ট্যারিফ চাপানোর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। যদিও একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার দরজাও নাকি পুরোপুরি বন্ধ নয়।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে মার্কিন কড়াকড়ি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিই নয়, ভারতের মতো কৌশলগত অংশীদার দেশগুলির উপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।