Wednesday, January 14, 2026
Latestদেশ

India-Germany sign MoUs: নয়া উচ্চতায় ভারত-জার্মানি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা থেকে সেমিকন্ডাক্টর একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নতুন পর্যায়ে পৌঁছলো ভারত ও জার্মানির কূটনৈতিক সম্পর্ক। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস–এর ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, অভিবাসন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি—এই ৪টি মূল ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগগুলিকে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কৌশলগত রোডম্যাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ চুক্তিটি হয়েছে কৌশলগত খনিজ ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে সহযোগিতা নিয়ে। আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তির ভিত্তি হিসেবে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব বাড়ছে। জার্মানির প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভারতের উৎপাদন সক্ষমতার সমন্বয়ে এই খাতে যৌথ উদ্যোগ ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও বৈঠকের কেন্দ্রে ছিল। দু’দেশ একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে এবং প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ও যৌথ উৎপাদন এগিয়ে নিতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দ্বিপাক্ষিক আস্থার স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে জার্মানির প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে—যা অতীতে সহযোগিতার পথে বড় বাধা ছিল।

উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, আয়ুর্বেদকে বৈশ্বিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করা এবং দক্ষ কর্মী যাতায়াত নিয়েও সমঝোতা হয়েছে। অভিবাসন ও কর্মী চলাচল নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্তের ফলে জার্মানির শ্রমবাজারের চাহিদা ও ভারতের দক্ষ মানবসম্পদের মধ্যে কার্যকর যোগসূত্র তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইউক্রেন ও গাজা সংকট নিয়ে মতবিনিময় হয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী মোদী একে মানবতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যা দেন। এ বিষয়ে ভারত–জার্মানির যৌথ ভূমিকার উপর জোর দেন। তিনি জানান, বর্তমানে দুই হাজারেরও বেশি জার্মান সংস্থা ভারতে সক্রিয়—যা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতার ইঙ্গিত।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দুই দেশ একাধিক নতুন প্রকল্পে এগোনোর কথা ঘোষণা করেছে। ভারত–জার্মানি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণে একটি বৃহৎ সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্পকে ভবিষ্যতের জ্বালানি ক্ষেত্রে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নগর উন্নয়ন ও আরবান মোবিলিটির ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর ভারত–জার্মানি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং চলতি বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর উদযাপিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভারত ও জার্মানির মতো অর্থনীতির ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা শুধু দুই দেশের নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।” দুই দেশ যৌথভাবে ‘ইন্ডিয়া–জার্মানি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।

সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ম্যাডাম কামার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। চ্যান্সেলর গান্ধীর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর গুজরাট সফরে গান্ধীজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের কথা বলেন। সামগ্রিকভাবে, এই সফর ও চুক্তিগুলি ভারত–জার্মানি সম্পর্ককে আরও গভীর, কৌশলগত ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার পথে এগিয়ে নিয়ে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।