Nepal: ৫ মার্চ নেপালে অনুষ্ঠিত হবে সংসদীয় নির্বাচন: সুশীলা কার্কি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ৫ মার্চ সংসদীয় নির্বাচন হতে চলেছে নেপালে। একাধিক জেন জি নেতার তরফে নির্বাচনের সময় পিছোনোর দাবি উঠলেও সে বিষয়ে অনড় রয়েছেন দেশের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে—কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করা হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের বিরুদ্ধে জেন জি আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। সরকারের সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান ১৯ জন তরুণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা নামিয়ে কার্ফু জারি করা হয়। প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ওলি।
এরপর ১২ সেপ্টেম্বর রাতে জেন জি নেতাদের সমর্থনে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। দেশের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ছ’মাসের বেশি স্থায়ী হবে না এবং মার্চ মাসের মধ্যেই দেশে নির্বাচন হবে। ক্ষমতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার উদ্দেশ্যে তিনি সরকার গঠন করেননি—সে কথাও স্পষ্ট করেছিলেন কারকি।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধানমন্ত্রী কার্কি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল (প্রচণ্ড), শের বাহাদুর দেউবা এবং কেপি শর্মা ওলি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, এই নির্বাচনে ওলি-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও অংশ নেবেন।
গত ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন—অন্তর্বর্তী সরকারের যে সব মন্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন নেপালের জনগণের এবং সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান কার্কি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জানুয়ারি শক্তিমন্ত্রী কুলমান ঘিসিং-কে ইস্তফা দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশ মেনে ইস্তফার ঘোষণা করেছেন ঘিসিং। উল্লেখ্য, মন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি নেপালের শক্তি সরবরাহ দফতরের প্রধান ছিলেন এবং তাঁর আমলেই দেশে লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। ফলে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়। একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আরও দুই মন্ত্রী—বাবলু গুপ্তা ও জগদীশ খারেল-কে। তাঁরাও পদত্যাগ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎই ভয়াবহ রূপ নেয়। ওলি সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব আন্দোলন ক্রমে সহিংস হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী ভবন, সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দফতর ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়, বহু জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতার মধ্যে থাকা দেশটি এবার নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায়।
৫ মার্চের নির্বাচন নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহল। এই নির্বাচন রাজনৈতিক ভাবে অস্থির নেপালে শান্তি ফেরাবে এমনটাই আশা করছেন কূটনৈতিক মহল।


