ভেনেজুয়েলায় হামলা মার্কিন সেনার, বন্দি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলা আমেরিকা-ভেনেজুয়েলার ঠান্ডা লড়াই এবার প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিল। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সেনা বোমাবর্ষণ করেছে এবং হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করা হয়েছে—এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা এবং তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘সফলভাবে একটি বড় আকারের অভিযান’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরসকে হেফাজতে নিয়ে ভেনেজুয়েলার বাইরে সরিয়ে আনা হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের অপছন্দের তালিকায় শীর্ষে। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালেই ট্রাম্প লিখেছিলেন, ভেনেজুয়েলা এবং তার আশপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত। ওই পোস্টে তিনি এয়ারলাইন্স, পাইলটদের পাশাপাশি মাদক ও মানব পাচারকারীদের উদ্দেশ্যেও কড়া বার্তা দেন।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় একাধিক দেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। ইরান ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলার দাবিকে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেন, এতে গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, কিউবা এই ঘটনাকে সাহসী ভেনেজুয়েলান জনগণের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় প্রতিক্রিয়া দাবি করেছে। রাশিয়া মার্কিন পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন বলে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর কোনও গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই এবং আদর্শগত শত্রুতা কূটনীতির সীমা অতিক্রম করেছে।
ইউরোপের দেশ স্পেন তুলনামূলক সংযত সুরে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। স্পেনের বক্তব্য, তারা গণতান্ত্রিক, আলোচনাভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত।


