Monday, April 13, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক আরোপ অবৈধ, সাফ জানালো মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার ঘোষিত এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানিয়েছে, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইপিএ) আইনের অপব্যবহার করেছে।

রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ট্রাম্প সরকারের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। তবে আপিল আদালত আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে, যাতে ট্রাম্প চাইলে সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

১১ সদস্যের বেঞ্চে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ৭ জন বিচারক ট্রাম্পের নীতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেন। আদালতের ১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করা হয়—

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী শুল্ক আরোপ ও প্রত্যাহারের ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে।

প্রেসিডেন্ট সীমিত কিছু ক্ষেত্রে আইইপিএ আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

ট্রাম্প প্রশাসন যে দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে, তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের সুপারিশ নেওয়া হয়নি।

আদালত স্পষ্ট করে জানায়, “কোনো দেশের ওপর আইইপিএ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সুপারিশ জরুরি। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই আইনি কাঠামোর বাইরে গৃহীত হয়েছে।”

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘বিভক্ত ও সঠিক নয়’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, আদালতের এই রায় বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি “আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস হয়ে যাবে।”

ট্রাম্প বলেন, “শুল্ক প্রত্যাহার হলে তা হবে দেশের জন্য শতভাগ বিপর্যয়। আদালতের এই আদেশ আমাদের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেবে। তবে আমরা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করব এবং সুপ্রিম কোর্টে জয়ী হব।”

প্রেক্ষাপট

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে ক্ষমতায় ফেরার মাত্র আড়াই মাসের মাথায়, ২ এপ্রিল তিনি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর বর্ধিত রপ্তানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

এর কারণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি ও বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার কথা তুলে ধরেন। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের এই নীতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা বাড়াবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও ক্ষতির মুখে ফেলবে।

সামনে কী?

এখন নজর থাকবে সুপ্রিম কোর্টের দিকে। আপিল আদালতের এই রায় কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প যদি সুপ্রিম কোর্টে জয় পান, তবে তাঁর শুল্কনীতি বহাল থাকবে।