কলকাতা বইমেলায় বই বিক্রি ২৭ কোটি টাকার, ৩২ লাখ পাঠকের ভিড়
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: শেষ হল চলতি বছরের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। তবে এই ‘শেষ’ মানতে নারাজ বইমেলা কর্তৃপক্ষ পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। বরং তাদের বক্তব্য, এবারের মেলা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে গেল আগামী বছরের ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার প্রস্তুতি।
গিল্ডের দাবি অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবছর পাঠক সমাগম ও বই বিক্রি—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এবছর বইমেলায় প্রায় ৩২ লক্ষ পাঠকের সমাগম হয়েছে, যেখানে গতবছর এই সংখ্যা ছিল ২৭ লক্ষ। অর্থাৎ পাঠকসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। একইসঙ্গে বই বিক্রির অঙ্কও বেড়েছে। গতবছর যেখানে বই বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২৩ কোটি টাকার, এবছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকায়।
গিল্ড কর্তৃপক্ষের মতে, এবছর বইমেলার সাফল্যের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মেলা চলাকালীন ৬ দিন ছুটি পড়া, উন্নত মেট্রো পরিষেবা এবং যাতায়াতের সুবিধা মানুষের আগমন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
আগামী বছর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ৫০ বছরে পা দেবে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্মরণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যেই বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে গিল্ড। গিল্ডের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে জানান, ১৯৯৭ সালে ময়দানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হয়ে যায়। সেই হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও নথি যদি সাধারণ মানুষের কাছে থেকে সংগ্রহ করা যায়, তবে ৫০তম বর্ষে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা সম্ভব হবে। এজন্য তিনি সাধারণ মানুষের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এদিকে, আগামী বছরের মেলার পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে অনুরোধ জানিয়েছেন, ৫০তম বর্ষ উপলক্ষে বইমেলার জন্য অতিরিক্ত জায়গা বরাদ্দ করার বিষয়ে বিবেচনা করতে। তিনি জানান, ‘বইতীর্থ’ আগামী বছরের মেলার অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে।
সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিত এবারের বইমেলায় ছিল এক হাজারেরও বেশি বইয়ের স্টল। ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানান, আইকেবিএফ-এ রেকর্ড ৩২ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে, যা সংখ্যার নিরিখে এশিয়ার বৃহত্তম বইমেলা হিসেবে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে, গিল্ডের কোষাধ্যক্ষ রাজু বর্মন আগামী বছরের মেলার সম্ভাব্য সূচি নিয়েও প্রস্তাব দেন। তিনি চান, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি বইমেলার উদ্বোধন হোক। তাঁর মতে, ২২ জানুয়ারি শুক্রবার হওয়ায় ২৩ ও ২৬ জানুয়ারির ছুটির সুবিধা মিললে বইপ্রেমীরা আরও বেশি সময় মেলায় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
এবছর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার থিম দেশ ছিল আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি ব্রিটেন, স্পেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং চিন-সহ একাধিক দেশ অংশগ্রহণ করে মেলায়। রাত ন’টায় ঐতিহ্যবাহী হাতুড়ি ৪৯ বার ঠুকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী-সহ বহু বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও অতিথি।
সব মিলিয়ে, রেকর্ড সাফল্যের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও, আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার সামনে এখন তাকিয়ে রয়েছে তার ঐতিহাসিক ৫০তম বর্ষ। আর সেই বর্ষকে ঘিরে প্রত্যাশা, প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে নতুন অধ্যায়।


