Wednesday, July 24, 2024
দেশ

সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চায়েত মামলায় রায়ে ‘ব্যাকফুটে’ বিরোধীরা

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চায়েত মামলায় রায়ে বিজেপি সহ বিরোধী শিবিরের আবেদন জোর ধাক্কা খেল। রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষে রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নতুন করে কোনও ভোট করা হবে না। পাশাপাশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটে জয়ী প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা যাবে। পাশাপাশি বিরোধীদের ইলেকশন পিটিশন দাখিল করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে বা হোয়াটসঅ্যাপে নমিনেশন দেওয়ার যে রায় কলকাতা হাইকোর্ট দিয়েছিল তাও এদিন বিবেচনার মধ্যে রাখেনি শীর্ষ আদালত। কারণ পঞ্চায়েত আইনে এমন কোনও নিয়ম নেই বলে জানানো হয়েছে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের ২০ হাজার ১৭৮টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। ভোটের মনোনয়ন দাখিল পর্বে শাসক দলের সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীরা। অভিযোগ ছিল শাসক দলের হিংসার কারণেই তাদের প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করতে পারচ্ছেন না। ন্যায় বিচার চেয়ে বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিআইএম কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়। মামলা চলাকালীন হাইকোর্ট রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে ই-মেলের মাধ্যমে জমা করা মনোনয়ন গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু, এই নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

দীর্ঘ চার মাসের শুনানি শেষে পঞ্চায়েতে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়’ মামলার রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে ২০,১৫৯টি আসনে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে আর কোনও বাধা থাকলো না নির্বাচন কমিশনের।

এদিন সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আলাদা করে কোনও নির্বাচন হচ্ছে না। জয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা যাবে। আরও জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য নির্বাচন কমিশন নাম নোটিফাই করলে ৩০ দিনের মধ্যে বিক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ইলেকশন ট্রাইবুনালে ফের অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেখানে তাদের অভিযোগের শুনানি হবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ এবং আইনজীবী কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌এই রায়ে আমি খুব খুশি। অনেক পরিশ্রম হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে।’ খুশি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীরাও।

তবে বিরোধীরা এতেই তাঁদের নৈতিক জয় দেখছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে আরও একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নতিস্বীকার করতে হল বিরোধীদের। অন্যদিকে, লোকসভা নির্বাচনের আগেও আরও বল পেল রাজ্যের শাসক দল।