Friday, July 12, 2024
দেশ

অযোধ্যায় রাম মূর্তিতে কেন অর্থদান করছে মুসলিম সংগঠন?

লক্ষৌ: উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বিজেপি শাসিত সরকার অযোধ্যায় হিন্দু দেবতা রামের যে বিশাল একটি মূর্তি তৈরির কথা ঘোষণা করেছে, তার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাইছে মুসলমানদের একটি গোষ্ঠী উত্তরপ্রদেশ শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড। উত্তরপ্রদেশের শিয়া ওয়াকফ বোর্ড জানিয়েছে, “রামমূর্তি নির্মাণ হলে দশটি রুপোর তির দান করবে ওয়াকাফ বোর্ড। এটা ভগবান রামের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।”

শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান ওয়াসিম রিজভি জানিয়েছেন, “অযোধ্যায় রাম মূর্তি নির্মাণ শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, গোটা ভারতের গর্ব।” তিনি আরো বলেন, “রামমূর্তি নির্মাণের সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসনীয়। তাই, আমরা ১০টি রুপোর তির দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে একটি চিঠিও লিখেছেন রিজ়ভি। সেখানে তিনি লিখেছেন, “অযোধ্যায় রামমূর্তি নির্মাণ উত্তরপ্রদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে দেবে।”

ওয়াসিম রিজভি

রিজ়ভি বলেন, “এই এলাকার নবাবরা সর্বদা অযোধ্যায় মন্দিরকে মর্যাদা দিতেন। এমনকী, মধ্য অযোধ্যায় হনুমান গরহির জমিটি দান করেছিলেন নবাব শুজা-উদ-দৌলাহ। ১৭৩৯ সালে। আর সেই মন্দির তৈরির অর্থ দিয়েছিলেন নবাব আসিফ-উদ-দৌলাহ। ১৭৭৫ থেকে ১৭৯৩-এর মধ্যে।” সেইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, সরযূ নদীর তীরে যেখানে রাম মূর্তি গড়ে উঠবে সেই জমি শিয়া বোর্ডের। সুন্নি ওয়াকাফ বোর্ডের নয়।

যে রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে বহু দশক ধরে বিতর্ক ও মামলা চলছে, নানা জায়গায় দাঙ্গায় হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, সেই বিতর্ক শেষ করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ শুরু করতেই এই সহযোগিতা বলে ওয়াকফবোর্ড মনে করছে। উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা শহরের রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কে যে জায়গা, তারই কাছ দিয়ে বয়ে গেছে সরযূ নদী।

কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি শাসিত সরকার জানিয়েছে, হিন্দুদের কাছে অতি পবিত্র ঐ নদীর ধারে তারা হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা রামচন্দ্রের একশো মিটার উচ্চতার একটি বিশাল মূর্তি তৈরি করবে।

রাজ্যের শিয়া মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী শিয়া ওয়াকফ বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ঐ মূর্তিটির জন্য দশটি রুপোর তীর বানিয়ে দেবে। ধনুক হাতে যুদ্ধরত রামচন্দ্রের পরিচিত ছবিতে তার পিঠে বাঁধা একটি তূণে বেশ কিছু তীর দেখা যায়।
কেনো রামচন্দ্রের মূর্তি তৈরিতে এই সহযোগিতার সিদ্ধান্ত তাদের? উত্তরে রিজভি বলছিলেন, ‘আমরা যে বার্তাটা এই সহযোগিতার মাধ্যমে দিতে চাইছি, তা হল হিন্দু আর মুসলমান- দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যাতে সম্প্রীতির একটা পরিবেশ তৈরি হয়। এই রাম জন্মভূমি আর বাবরি মসজিদ নিয়ে অনেক হিংসা, অনেক অশান্তি হয়েছে, সেসব শেষ করে এবার যাতে দুই সম্প্রদায় শান্তিতে থাকতে পারে, সেই চেষ্টা কোথাও থেকে তো শুরু করতে হবে। সেই প্রচেষ্টাই আমরা করতে চাইছি।’