Monday, July 22, 2024
দেশ

যোগী রাজ্যে চলছে ‘অপারেশন ক্লিন’ অভিযান; ১০ দিনে ২৪ এনকাউন্টার

লখনউ: ৩ জুলাই উত্তরপ্রদেশের কানপুরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দূবেকে ধরতে গিয়ে এক ডিএসপি সহ ৮ পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকে ব্যাপক সক্রিয় হয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এখন যোগী রাজ্যের পুলিশ অপরাধীদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করেছে। পুলিশ গত দশ দিনে প্রায় দুই ডজন এনকাউন্টার করেছে। যার মধ্যে ১০ জন অপরাধী মারা গেছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।

যোগীরাজ্যে দুষ্কৃতী দমনের এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ক্লিন’। আর গত দশদিনেই অপারেশন ক্লিনে খতম করা হয়েছে দশ জনকে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। উল্লেখ্য, ৮ পুলিশকর্মীর হত্যার পর থেকেই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

দুষ্কৃতী দমনে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এরপরই পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে প্রেম বিকাশ পাণ্ডে, অতুল দুবে, অমর দুবে, প্রবীণ, প্রভাব মিশ্র-সহ একের পর এক দুষ্কৃতী। গত ১০ জুলাই শুক্রবার এনকাউন্টারে খতম করা হয়েছে বিকাশ দুবেকেও। ওই দিনই এনকাউন্টারে খতম হয় পান্না যাদব ওরফে সুমন যাদব নামে এক দুষ্কৃতীকে।

৮ জুলাই পুলিশি এনকাউন্টারে খতম করা হয় বিকাশ দুবের সহযোগী অমর দুবেকে। ৯ জুলাই স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) প্রভাত মিশ্রকে এনকাউন্টারে খতম করে। এর একদিন আগেই তাকে ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ভাদোহীতে একটি সংঘর্ষে কুখ্যাত অপরাধী দীপক গুপ্তকে খতম করা হয়। আলিগড়ে বাবলুকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং বাহরাইচে অপর অপরাধী পান্না যাদবকে এনকাউন্টারে খতম করা হয়।

উত্তরপ্রদেশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমার জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করেছে। কোনও অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, যোগী আদিত্যনাথ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যোগীরাজ্যে ৩ হাজারেরও বেশি এনকাউন্টার করা হয়েছে। যোগী প্রশাসনের ভয়ে একটা সময় ১২ হাজার দুষ্কৃতী জামিন নিতে অস্বীকার করেন। অনেকেই আবার প্রাণভয়ে সরাসরি আত্মসমর্পণ করেছেন। যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হয়েই পুলিশকে অগাধ স্বাধীনতা দেন। যোগী আদিত্যনাথ প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন, রাজ্যে অপরাধী দমনে পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া হল।