Monday, July 22, 2024
দেশ

শিশুদের কাবু করতে পারবে না করোনা, ধাপে ধাপে স্কুল খুলে দেওয়া হোক: AIIMS প্রধান

নয়াদিল্লি: গত বছর মার্চ মাস থেকে বন্ধ স্কুল-কলেজ। এবার করোনা সংক্রমণের হার যে সমস্ত এলাকায় কম সেখানে ধাপে ধাপে স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেন AIIMS প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি জানান, শিশুদের মধ্যে করোনার বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। স্কুলে যাওয়া শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধাপে ধাপে স্কুল খুলে দেওয়া হলে শিশুরা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

সরকারি সংস্থা ICMR-এর তরফে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক বৈঠকে ডিজি বলরাম ভার্গব বলেন, শিশুদের ভাইরাস মোকাবিলার ক্ষমতা বড়দের থেকে বেশি। চতুর্থ সেরো সার্ভেতে দেখা গিয়েছে, করোনার বিরুদ্ধে শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতেও স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। তবে স্কুল খোলার আগে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের টিকা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান তিনি।

AIIMS প্রধানের পরামর্শ, দেশের যে সমস্ত জেলায় সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের কম সেখানে ধাপে ধাপে স্কুল খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা উচিৎ। সেক্ষেত্রে একদিন বাদে একদিন স্কুলে আসার নিয়ম চালু করা যেতে পারে। ধাপে ধাপে পঠনপাঠন চালু করা যেতে পারে।

রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, শিশুর বিকাশের জন্য স্কুলে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। স্কুল বন্ধ থাকার হলে শিশুদের জ্ঞান ও বিশেষ দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রান্তিক শিশুরা পিছিয়ে পড়ছেন। কারণ প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই। তবে স্কুল খোলার পর সংক্রমণ বাড়ছে মনে হলে সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল বন্ধ করে দিতে হবে বলে মত AIIMS প্রধানের।

ICMR জানিয়েছে, দেশের ৬৭.৭ শতাংশ মানুষের দেহে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও ঝুঁকিতে রয়েছেন ৪০ কোটি মানুষ। পরিসংখ্যান বলছে, ৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৫০ শতাংশেরই শরীরে ইতিমধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে রয়েছে।

তবে R-value বিপদ বাড়াচ্ছে। একজন করোনা‌ রোগীর থেকে কতজন সংক্রমিত হচ্ছেন, তার হিসেবকেই বলা হয় R-value। যা ১ হয়ে যাওয়া মানেই বিপদ সংকেত। গত জুনে R-value ছিল ০.৭৮। এখন তা বেড়ে হয়েছে ০.৯৫। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা।