Wednesday, July 24, 2024
দেশ

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে হত্যার ছক কষা হচ্ছে

আগরতলা: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে হত্যার ছক কষছে মায়ানমারের মাদক পাচারকারীরা। দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিজেপি বিধায়ক রতন চক্রবর্তী এমনই দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, মায়ানমারের রাজধানী নয়পিডাউতে মাদকচক্রীরা বৈঠক করে বিপ্লববাবুকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল।

মায়ানমারের রাজধানী নৈপিডাউতে বসে এই পরিকল্পনা করা হয়। ক্ষমতায় আসার পরেই মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণার পর থেকে তাঁর কাছে একের পর এক হুমকি আসতে থাকে। এই খুনের ছক সেই হুমকিরই অংশ বলে মনে করছে পুলিশ।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আজম খান নামে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। আগরতলায় গ্রেপ্তার হওয়া আজ়ম খান পুলিশি জেরায় এই ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করে। জানা গিয়েছে, পাইপলাইনের কাজ করার অজুহাতে বিপ্লব কুমারের বাড়িতে ঢোকে সে। এরপর ওই বাড়ির একটি নকশাও জোগাড় করে।

বিজেপির দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। সেটাই মাদক পাচারকারীদের চক্ষুশূল হয়েছে। এই অঞ্চলে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলেছে এতদিন। সেখানে সমস্যা হওয়াতেই মাদক কারবারিরা দোট বেঁধে বিপ্লব দেবকে খুনের ছক কষেছে বলে বিজেপির রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদিকা প্রতিমা ভৌমিক অভিযোগ করেছেন। এই তথ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাও নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি বিজেপির।

বিজেপির অভিযোগ, ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের নির্দেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫০ হাজার কেজিরও বেশি গাঁজা, ৮০ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ, ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মাদক ট্যাবলেট, ২ কেজি হেরোইন, ৬২০ গ্রাম ব্রাউন সুগার বাজেয়াপ্ত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এর পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৫০ জনেরও বেশি মাদক পাচারকারীকে। এটা মেনে নিতে না পেরেই আন্তর্জাতিক নেশা কারবারিরা এবং স্থানীয় কিছু নেশার কারবারিরা মিলিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপর প্রাণঘাতী হামলার ছক কষেছে।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার। উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।