Sunday, July 21, 2024
দেশ

ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকরা পাস চেয়েছিলেন, দেয়নি সরকার, তাই বাধ্য হয়েই হাঁটার সিদ্ধান্ত

ঔরঙ্গাবাদ: লকডাউনের মাঝে মহারাষ্ট্রে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। ঔরঙ্গাবাদে মালবাহী ট্রেন পিষে দিল ১৬ জন শ্রমিককে। রেল লাইনের উপর দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সেখানেই। ঘুমন্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের পিষে দিয়ে গিয়েছে মালবাহী ট্রেন। মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের শ্রমিকের।

জানা গেছে, লকডাউনে আটকে পড়া হত্যভাগ্য ওই শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার জন্য মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই রেললাইন ধরে হেটে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। তবে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফেরা আর হল না তাঁদের। রেলের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল হতভাগা শ্রমিকের।

ওই শ্রমিক দলের কয়েকজন রেললাইনের পাশে ঘুমিয়েছিলেন। যার ফলে তাঁরা বেঁচে যান। তাঁদের মধ্যে একজন বলেন, পারিবারিক অনেক কাজ ছিল, তাই আর অপেক্ষা করার উপায় ছিল না। তাই পায়ে হেঁটে প্রথম ধাপে ৪৫ কিলোমিটার পেরিয়ে তাঁরা জালনা থেকে ঔরঙ্গাবাদে পৌঁছেছিলেন। তারপর সামনে আরও ১২০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। পৌঁছতে হত ভূসাওয়াল, যার দূরত্ব ১২০ কিমি। আশা ছিল সেখান থেকে ট্রেন ধরতে পারবেন। কিন্তু তা আর হলো না। তার আগেই রেলের চাকায় পিষ্ট হতে হল তাঁর সঙ্গীদের।

বেঁচে যাওয়া ওই শ্রমিক জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে মধ্যপ্রদেশ সরকারের কাছে ই-পাসের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনও জবাব পাইনি। ক্লান্তিতে রেল লাইনের উপরেই অনেকে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ট্রেন আসছে দেখে আমি আর আমার দুই সঙ্গী বারবার চিৎকার ওদের ডেকেছিলাম, কিন্তু ওরা শুনতে পায়নি। বেঁচে যাওয়া আরেক শ্রমিকের আফসোস, সরকারের অনুমতি পেলে, আজ হয়তো এই দিনটা দেখতে হত না।

এদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মর্মাহত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেছেন। এনিয়ে উদ্বেগ ও শোকপ্রকাশ করেন অন্যান্য নেতারাও। যথারীতি এই ঘটনার দায় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোরও শুরু হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং ঘটনার দায় চাপিয়েছেন কেন্দ্র ও মধ্যপ্রদেশ সরকারের উপর।