কমলা মিলস অগ্নিকাণ্ড: ঝুঁকি নিয়ে অনেককে বাঁচালেন পুলিশ কনস্টেবল সুদর্শন

মুম্বাই: দাউদাউ করে তখন জ্বলছে আগুন। ঘন ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল গোটা রেস্তোরাঁ। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। আতঙ্ক, কান্না, হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি, আর্তনাদে ভরে উঠেছে কমলা মিলস কমপাউন্ড। ফোনের টর্চ জ্বেলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে আটকে পড়া মানুষজন। আর এর মাঝেই আগমন হল তাঁর। ঠিক হিরোর মতো। আহতদের উদ্ধার করলেন। কাঁধে করে নামিয়ে নিয়ে এলেন চারতলা থেকে একতলায়। অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আহতদের পৌঁছে আবার ছুটে গেলেন উপরে। আগুন, ধোঁয়ার পরোয়া না করেই নিজের প্রাণ বাজি রেখে সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালেন বহুজনকে। এই ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়াতেও। আর এখন দেশের হিরো ওরলি থানার পুলিশ কনস্টেবল সুদর্শন শিন্ডে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত  ২৯ ডিসেম্বর রাতে মুম্বাই রাজ্যের লোয়ার প্যারেল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয়। এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। আহত হয়েছেন ২১ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। কিন্তু, সুদর্শন তা বাড়তে দেননি। এত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েও কোনও ক্রেডিট নিতে চান না। বলছেন, “আমার কর্তব্য আমি করেছি। আমার সহকর্মীরা এগিয়ে না এলে এটা সম্ভব হত না।”

এই ঘটনায় সোমবার এন এম জোশী মার্গ থানার পুলিশকর্মীরা গিবসন লোপেজ (৩৪) ও কেভিন বাওয়া (৩৫) নামে ওই রেস্তোরাঁর দুই জন ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে ৷ এদের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান পিনাল কোডের ৩০৪, ৩৩৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় এই নিয়ে গ্রেফতার হলেন ৪ জন ৷

আগুনে পুড়ে নয়, ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়েই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই বহুতল থেকে বেরনোর সুব্যবস্থা থাকলে এতজনের মৃত্যু ঠেকানো যেত। এমনটাই মত হাসপাতালের ফরেনসিক দফতরের প্রধানের। অগ্নিকাণ্ডের পর যথারীতি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। দমকল বিধি না মেনে কীভাবে পাবের অনুমতি? সরব বিজেপি, কংগ্রেস। ঘটনায় দৃশ্যতই অস্বস্তিতে শিবসেনা। পাঁচ পুর আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে সুদর্শন বলছেন, “ওইদিন আমি কমলা মিলসের কাছাকাছি ডিউটিতে ছিলাম। তখনই খবর পাই আগুন লেগেছে। দমকল আসার অপেক্ষা করছিলাম। দমকল এলে তাদের সঙ্গে চলে যাই। ঘটনাস্থানে গিয়ে দেখি দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। বাইরে কাঁদছে বহু মানুষ। আর কমপাউন্ডে আটকে পড়া মানুষজন তখন টর্চ জ্বালিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। দমকলকর্মীদের সঙ্গে আমি চারতলায় চলে যাই। কিন্তু, দরজা বন্ধ ছিল। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতে হয়। এরপর ওরলি পুলিশ স্টেশনের আরও দুই কনস্টেবল আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। দমকলকর্মীরা একদিকে আগুন নেভাচ্ছিলেন। আমি আর আমার দুই সহকর্মী আটকে পড়া মানুষজনকে বাঁচাতে উদ্যত হই। সিঁড়ি দিয়ে স্ট্রেচারে করে আহতদের নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তাই, কাঁধে করেই তাদের নামিয়ে আনি।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিজের জীবনের পরোয়া না করে সাহসী মানুষটি ঝাঁপিয়ে পড়েন রেস্তরাঁর আগুনে। বেরিয়ে আসতে সহযোগিতা করেছেন অনেককে। কাঁধে-পিঠে করে বের করে এনেছেন অনেক দগ্ধ এবং আহত ব্যক্তিকে। সুদর্শনের এই উদ্ধারকাজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভাইরাল’ হয়ে গিয়েছে। তাকে সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সাহসিকতার জন্য গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সুদর্শনকে সম্মানিত করেন মুম্বাইয়ের মেয়র।