Monday, July 22, 2024
রাজ্য​

কে এই রাজীব কুমার? যাকে নিয়ে উত্তাল গোটা রাজ্য

কলকাতা: রবিবার সন্ধ্যায় সারদা চিটফান্ড মামলায় তদন্ত চালানোর সময়ে কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমারের সরকারি বাসায় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যায়। সিবিআই লাউডন স্ট্রিটে তাঁর বাসভবনে যাওয়ার পর সিবিআই কর্তাদের বাড়ির ভিতর ঢুকতে বাধা দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তারপর তাঁদের কার্যত ধাক্কা মারতে মারতে থানায় নিয়ে যান কলকাতা পুলিশের কর্তারা। পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসে যান স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, সারদা চিটফান্ড মামলার তদন্তকারী হিসেবে রাজীব কুমার যা যা তথ্য-প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছিলেন, সেগুলোর সব কিছু তিনি এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেননি। সে বিষয়েই কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়েছিলেন সিবিআই কর্মকর্তারা। কিন্তু পুলিশকর্মীরা সিবিআই অফিসারদের আটক করে থানায় নিয়ে যান, তারপরই কমিশনারের বাসায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কে এই রাজীব কুমার?

উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে জন্ম রাজীব কুমারের। দেশের সেরা প্রকৌশল কলেজগুলোর অন্যতম কানপুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা আইআইটির ছাত্র ছিলেন রাজীব। কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে স্নাতক হয়ে তারপর তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস বা আইপিএস অফিসার হন ১৯৮৯ সালে। যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে।

পুলিশের কাজে রাজীব কুমার তাঁর প্রকৌশলবিদ্যা ব্যাপকভাবে কাজে লাগানোর জন্য পরিচিত। একের পর এক তদন্তে তিনি ইলেকট্রনিক সার্ভিল্যান্স চালিয়ে অপরাধীদের ধরতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু তিনি পুলিশ মহলে ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ অফিসার হিসেবে প্রথম নজরে আসেন তখন, যখন ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে বীরভূমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালাতেন।

চুরির কয়লাভর্তি ট্রাক ধাওয়া করে ধরার পরে সব চাকার হাওয়া খুলে দিতেন তিনি, যাতে চাকাগুলোও নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীকালে রাজীব কুমার কলকাতা পুলিশের উপকমিশনার যেমন ছিলেন, তেমনই সিআইডির অপারেশনস প্রধানও ছিলেন। সেই সময়ে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে লুকিয়ে থাকা একাধিক বাংলাদেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হন তিনি।

বেশ কয়েক বছর আগে নদীয়া জেলায় একটি গির্জার প্রধান, ৮০ বছরেরও বেশি বয়সী এক সন্ন্যাসিনীকে গণধর্ষণে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেন ইলেকট্রনিক সার্ভিল্যান্স চালিয়েই। তাঁর এই যন্ত্রের সাহায্যে নজরদারি নিয়ে মমতা বিরোধী নেত্রী থাকার সময়েও অভিযোগ তুলতেন। মমতা বলেছিলেন রাজীব কুমারই নাকি তাঁর ফোন ট্যাপ করান। তবে সরকার পরিবর্তনের পরে যখন মমতা ক্ষমতায় আসেন, তখন রাজীব কুমার মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের অফিসারদের মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠেন।

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রধান থাকাকালীনই ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড মামলা সামনে আসে। রাজীব কুমারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। এরপরে কলকাতার পুলিশ কমিশনার হন রাজীব কুমার।

তাঁর কাজকর্মের জন্য একাধিকবার সমালোচিতও হয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশন তাঁকে একবার ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল ‘পক্ষপাত’ করতে পারেন—এই আশঙ্কার কথা বলে। ভোট শেষ হতেই যদিও আবার তাঁকে পুরনো পদে ফিরিয়ে আনা হয়।