Wednesday, July 24, 2024
আন্তর্জাতিক

রক্ত দান করে ২৪ লাখ জীবন বাঁচিয়েছেন জেমস হ্যারিসন

সিডনি: মাত্র ১৪ বছর বয়সেই অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা জেমস হ্যারিসনের অস্ত্রোপচারের করা হয়েছিল। অপর একজনের রক্তে সেবার জীবন বেঁচেছিল তাঁর। সেই থেকে শুরু। সিদ্ধান্ত নেন যতটা সম্ভব রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানোর। নিজেও রক্তদাতায় পরিণত হয়েছিলেন। বিগত ৬০ বছরে প্রায় প্রতি সপ্তাহে রক্ত দিয়েছেন তিনি। সে রক্তে বেঁচেছে ২৪ লাখের বেশি শিশুর জীবন।

রেড ক্রস ব্লাড সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, জেমস হ্যারিসনের দেওয়া রক্তে বেঁচেছে ২৪ লাখের বেশি শিশুর জীবন। এ বছর ৮১ বছরে পা দিয়েছেন হ্যারিসন। গত ১১ মে শুক্রবার বয়সের কারণে শেষবারের রক্তদান করলেন তিনি। হ্যারিসন নিজের দেশে ‘সোনালি বাহুর মানব’ নামে পরিচিত। এ জন্য হ্যারিসন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘মেডেল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’সহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ান রেডক্রস ব্লাড সার্ভিস জানিয়েছে, হ্যারিসনের রক্তে এক বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি রয়েছে যা দিয়ে রেসিস রোগ প্রতিরোধের এক ধরনের ইনজেকশন তৈরি হয়। এই রোগে সাধারণত গর্ভাবস্থায়ই আক্রান্ত হয় শিশুরা। আর এই রোগের ভয়াবহতা এতটাই দৃঢ় যে, এতে আক্রান্ত হলে শিশুর ব্রেন ড্যামেজ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বাচ্চার মায়ের রক্ত যদি রেসাস-নেগেটিভ হয় এবং বাচ্চা যদি বাবার থেকে রেসাস পজিটিভ রক্ত পায় তবে এমনটি ঘটে। এতে আক্রান্ত হলে মায়েদের গর্ভের ভ্রূণই মারা যেতে পারে।

হ্যারিসনের রক্তে রেসাস রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি রয়েছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান রেডক্রস ব্লাড সার্ভিস। হ্যারিসন নিয়মিত রক্ত দান শুরুর কয়েক বছর পর চিকিৎসকেরা বিষয়টি আবিষ্কার করেন। এরপর গবেষকেরা এই অ্যান্টিবডি থেকে উদ্ভাবন করেন অ্যান্টি-ডি ইনজেকশন। এই ইনজেকশন রেসাস নেগেটিভ রক্তের গর্ভবতী নারীকে দেওয়া হলে তাঁর দেহে আর সন্তানের প্রাণঘাতী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে না।