Tuesday, July 16, 2024
রাজ্য​

উচ্চমাধ্যমিকে স্কুলের ২২০ জনের মধ্যে ১০১ জন অকৃতকার্য, চোপড়ায় জাতীয় সড়ক অবরোধ

উত্তর দিনাজপুর: করোনার জেরে চলতি বছরের মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বাতিল করা হয় পরীক্ষা। বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের। মাধ্যমিক পাশের হার ১০০ শতাংশ। তবে উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার ৯৭.৬৯ শতাংশ।

ফলাফল প্রকাশ করলে দেখা যায়, উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া গার্লস হাইস্কুলের (Chopra Girls High School) প্রায় ৫০ শতাংশ পড়ুয়াই পরীক্ষা ফেল করেছে। পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবিতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে দেখান অকৃতকার্য পড়ুয়ারা। পুলিশ এসে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে অকৃতকার্য পড়ুয়ারা পথ অবরোধ তুলে নেয়।

জানা গেছে, ওই স্কুলের ২২০ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১০১ জনই ফেল করেছেন। ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা চোপড়ায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করার ফলে বহু যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকে পড়ে। কলকাতা-‌শিলিগুড়িগামী বহু বাসও দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে যাত্রীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চোপড়া থানার পুলিশ। পড়ুয়াদের দাবি, পাশ করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত না নেওয়া অবধি জাতীয় সড়কে অবরোধ চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

এদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাধ্যমিকের মতো উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট তৈরির বিষয়টি তাদের হাতে ছিল না। চোপড়া গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মল্লিকা সাহা বলেন, পড়ুয়ারা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে শুনে খারাপ লাগছে। একাদশের নম্বর, প্রজেক্টের নম্বর এবং মাধ্যমিকের রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিকের মতো উচ্চমাধ্যমিকের নম্বরও স্কুলের উপর ছেড়ে দিলে ভালো হত। মাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ পাশ, আর উচ্চমাধ্যমিকে ৯৭ শতাংশ পাশ! এতে স্কুলের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। পরীক্ষা হলে পরীক্ষার্থীরা যদি ফেল করতো সেক্ষেত্রে কিছু বলার থাকত না। তবে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, যাঁরা নম্বর নিয়ে খুশি নয়, তাঁরা করোনা পরিস্থিতি ঠিক হলে পরীক্ষায় বসতে পারবে। আপাতত সেদিকেই তাঁকিয়ে আছি আমরা।

ওই স্কুলের পড়ুয়াদের দাবি, অতিমারি পরিস্থিতিতে আমরা পরীক্ষাই দিলাম না অথচ আমাদের ফেল করিয়ে দেওয়া হল। এই ফলাফল আমরা মানব না। পাশ করিয়ে দেওয়া হলে তবেই মার্কশিট তুলবো আমরা। অকৃতকার্য পড়ুয়াদের দাবি, কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই যেন তাঁদের পাশ করিয়ে করা হয়।